খামেনির যুগের অবসান এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ

প্রকাশঃ মার্চ ১, ২০২৬ সময়ঃ ৭:৫১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৭:৫১ অপরাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতির কেন্দ্রে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ছিলেন Ali Khamenei। ১৯৮৯ সালে সুপ্রিম লিডারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইরানের সামরিক, কূটনৈতিক ও আদর্শিক নীতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল। ইজরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কঠোর অবস্থান, পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং “প্রতিরোধ অক্ষ” (Axis of Resistance) গড়ে তোলাই ছিল তার কৌশলের মূল স্তম্ভ।

খামেনির রাজত্ব ও দৃঢ়তা

খামেনির নেতৃত্বে ইরান সরাসরি বৃহৎ যুদ্ধে না গিয়ে প্রক্সি কৌশল গ্রহণ করে—লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাক ও সিরিয়ায় মিত্র গোষ্ঠী, ইয়েমেনের হুথিদের মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও তেহরান পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াতে থাকে। এতে ইজরাইল বারবার সতর্ক করে এবং যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অবরোধ জোরদার করে।

মৃত্যু ও তাৎক্ষণিক অনিশ্চয়তা

খামেনির মৃত্যু (যদি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়ে থাকে) ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় শূন্যতা তৈরি করবে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় ও রেভল্যুশনারি গার্ড-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আলোচনায় আসতে পারে। এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষমতা কাঠামো দৃশ্যত স্থিতিশীল থাকলেও ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের সম্ভাবনা থাকবে।

বিজয়ী কে?

এই মুহূর্তে সরাসরি “বিজয়ী” নির্ধারণ করা কঠিন।

যদি ইরানের কৌশলগত কাঠামো অটুট থাকে, তবে তেহরান তার আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখবে।

যদি অভ্যন্তরীণ বিভাজন বাড়ে, তবে ইজরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।

অর্থাৎ, ফল নির্ভর করবে ক্ষমতা হস্তান্তর কতটা মসৃণ হয় তার ওপর।

রাশিয়ার ভূমিকা

Vladimir Putin-এর নেতৃত্বাধীন রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে—বিশেষত সিরিয়া ইস্যু ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায়। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কো-তেহরান সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও জোরদার হয়েছে। খামেনির অনুপস্থিতিতে রাশিয়া সম্ভবত ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করবে, যাতে পশ্চিমা প্রভাব বৃদ্ধি না পায়।

ইজরাইল ও আমেরিকার সম্ভাব্য পদক্ষেপ

Israel দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখে। খামেনির মৃত্যুর পর ইজরাইল গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে পারে এবং প্রয়োজনে সীমিত সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করতে পারে।
অন্যদিকে United States পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কূটনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা কিংবা আঞ্চলিক জোট শক্তিশালী করার পথে হাঁটতে পারে। সরাসরি যুদ্ধ—এই মুহূর্তে—সব পক্ষের জন্যই ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

সামনে কী?

ইরান কি এতদিন শুধু কড়া ভাষণ দিয়েছে, নাকি বাস্তব শক্তির ভিত্তি তৈরি করেছে—তার উত্তর মিলবে উত্তরসূরি নেতৃত্বের কার্যক্রমে। যদি নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমবে না। আর যদি নতুন নেতৃত্ব সমঝোতার পথে যায়, তবে আঞ্চলিক সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, খামেনির যুগের সমাপ্তি শুধু একজন নেতার প্রস্থান নয়—এটি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কে শেষ পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করবে, তা নির্ধারণ করবে তেহরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতি এবং ওয়াশিংটন-তেলআবিবের কৌশলগত পদক্ষেপ।

প্রতি /এডি /শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G